দীপা কর্মকারকে খেলরত্ন পুরস্কার দিলেন রাষ্ট্রপতি, বিশ্বেশ্বর নন্দীকে দ্রোণাচার্য্য

নয়াদিল্লি, ২৯ আগষ্ট৷৷ দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান রাজীব গান্ধী খেলরত্নে ভূষিত হলেন রাজ্যের মেয়ে দীপা কর্মকার৷ Rastrapatiপাশাপাশি রিও অলিম্পিকে দেশের হয়ে ব্যাডমিন্টনে রৌপ্য পদক দখল করা পি ভি সিন্ধু ও কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী সাক্ষী মালিক সহ শ্যুটার জিতু রাইকে আজ খেলরত্ন প্রদান করা হয়৷ রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক আলোকোজ্জ্বল অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই চার অ্যাথলেটকে দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মাননা প্রদান করা হয়৷ রিও অলিম্পিকে ভারতে হয়ে জিমন্যাস্টিক্সের মহিলা বিভাগে প্রথম বার যোগ্যতা অর্জন করেই ইতিহাস রচনা করেন রাজ্যের মেয়ে দীপা কর্মকার৷ যদিও রিওতে ১৫ পয়েন্টের জন্য দীপা পদক জিততে পারেনি৷ তবে রিওতে দীপা যতটুকু অর্জন করতে পেরেছে, তাতেই খুশি দেশবাসী৷ ফলে রিওতে রাজ্যের মেয়ে ফলাফলের আজ যোগ্য সম্মান পেল৷ পদক না পেলেও ভারতবাসী হিসাবে রিওতে দীপার পারফরম্যান্স ছিল মনে রাখার মতো৷ সুবাদে দেশের সর্বোচ্চ খেলরত্নে অলংকৃত হলেন রাজ্যের দীপা৷ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কাছ থেকে রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পেয়ে দারুন উচ্ছ্বসিত দীপা৷ বলেন, খেলরত্ন পাওয়ার পর বর্তমানে দায়িত্বটা আরো বেড়ে গেল৷ টোকিওতে অবশ্যই দেশকে পদক এনে দিতে হবে৷ এদিন দীপা পাশাপাশি পি ভি সিন্ধু, সাক্ষী মালিক ও জিতু রাইকেও রাজীব গান্ধী খেলরত্ন সম্মানে ভূসিত করা হয়৷
এদিন রাজীব গান্ধী খেলরত্নে পাশাপাশি দেশের ১৫ জন ক্রীড়াবিদকে অর্জুন পুরস্কার প্রদান করা হয়৷ এরা হলেন- রজত চৌহান (আর্চারি), ললিতা বববর (অ্যাথলেটিক্স), সৌরভ কুঠারি (বিলিয়ার্ডস), শিব থাপ্পা (বক্সিং), আজিঙ্কা রাহানে (ক্রিকেট), সুব্রত পাল (ফুটবল), রানি(হকি), ভিআর রঘুনাথ (হকি), গুরপ্রিত সিং(শ্যুটিং), অপূর্বিই চান্ডেলা(শ্যুটিং), সৌম্যজিৎ ঘোষ(টেবিল টেনিস), ভিনেশ পোগাত(কুস্তি), অমিত কুমার (কুস্তি), সন্দীপ সিং(প্যারা অ্যাথলেটিক্স), বিরেন্দার সিং(কুস্তি)৷
এদিন যারা খেলরত্নে ভূষিত হয়েছেন তারা, আর্থিক পুরস্কার স্বরূপ ৭৫ লক্ষ টাকাও পেয়েছেন৷ পাশাপাশি অর্জুন পুরস্কার ও দ্রোণাচার্য পুরস্কার প্রাপকদের দেওয়া হয় ৫লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার৷ এই বছরের খেলরত্ন ও অর্জুন পুরস্কার নির্বাচনি কমিটির মুখ্যআধিকারিক ছিলেন বিচারপতি এস কে আগরওয়াল৷
ভারতীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষকের সর্বোচ্চ সম্মান দ্রোণাচার্য পুরস্কার লাভ করলেন রাজ্যের বিশিষ্ট জিমন্যাস্টিক্স প্রশিক্ষক বিশ্বেশ্বর নন্দী৷ ভারতের হয়ে একমাত্র মহিলা জিমন্যাস্টিক্স হিসাবে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা দীপা কর্মকারের প্রশিক্ষক হলেন বিশ্বেশ্বর নন্দী৷ রিওতে অংশ গ্রহনের ছাড়পত্র, ফাইনালের প্রবেশ ও অল্পের জন্য পদক হাত ছাড়া করলেও, দেশকে গর্বিত করা দীপা কর্মকারের তৈরী হওয়ার পিছনে অন্যতম অবদান বিশ্বেশ্বর নন্দীর৷ অলিম্পিকে যে সমস্ত খেলোয়াড়রা পদক জয়লাভ করে এবং যারা ভারতীয় ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসাবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে তাদেরকেই দ্রোণাচার্য সম্মানে ভূষিত করা হয়৷ অলিম্পিকে দীপা পদক না পেলেও, বিশ্বেশ্বর নন্দীর অক্লান্ত পরিশ্রম অবশ্যই নজরে এসেছে এমসি মেরিকমের৷ মেরিকম ছিলেন এবারের দ্রোণাচার্য পুরস্কারের তালিকা বাছায়ের মূল আধিকারিক৷ বিশ্বেশ্বর নন্দীর পাশাপাশি এদিন দেশের আরো ৫ জন কোচকে এই দ্রোণাচার্য পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়৷ এরা হলেন -নাগাপুরি রমেশ (অ্যাথলেটিক্স), সাগর মল দয়াল(বক্সিং), রাজকুমার শর্মা (ক্রিকেট), এস প্রদীপ কুমার (সাঁতার), ও মহাবীর সিং(কুস্তি)৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top