পুর পরিষদের ভূমিকায় ক্ষোভ, বাজার বয়কট সব্জি বিক্রেতাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ২৮ মে৷৷ অবৈজ্ঞানিকভাবে তৈরী খোয়াই সুভাষপার্ক কৃষি বাজার আজ থেকে প্রায় ১৩-১৪ বছর পূর্বে তেরী৷ এই কৃষি বাজারের পুরোটাই কোন প্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই তৈরী হয়েছিল৷ কৃষি বাজার তৈরী নিয়ে প্রাক্তন নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন সুখেন্দু বিকাশ দে’র সাথে বিধায়ক সমীর দেব সরকারের মতানৈক্য হয়েছিল৷ সমীর বাবুর ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞানসম্মত কৃষি বাজার তৈরী করা হোক৷ যেমন শেডঘরে ওয়াল নয় নেট লাগানো থাকবে৷ দোকানীদের বসার জায়গা আরও উঁচু থাকবে৷ জনগণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সবজি ক্রয় করতে পারবেন৷ কিন্তু ১৩-১৪ বছর পূর্বে অবৈজ্ঞানিকভাবে নির্মিত এই কৃষি বাজার শেডের এখন পর্যন্ত কোন সংস্কার হয়নি৷ রয়েছে আলোর অভাব, নেই কোন বৈদ্যুতিক পাখা যার ফলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে সবজি নষ্ট হয় তীব্র গরমে যার খেসারত দিতে হয় জনগণকেই৷ কিন্তু কিছু কৃষক রয়েছেন যারা বারো মাস DSCN7540রাস্তায় সবজি বা অন্যান্য জিনিষ বিক্রি করেন৷ বর্তমানে বাজারে ছোট ছোট গলিপথ রয়েছে৷ এসব কারণে যার ফলে বাজারের ঐ ছোট ছোট গলিপথে অসংখ্য ভীড় জমে৷ বিশেষ অসুবিধা হয় মহিলাদের৷ প্রচুর ভীড় ঠেলিয়ে মহিলাদের বাজার-হাট করা দায় হয়ে পড়েছে৷
এসমস্ত সম্যাসার পাশাপাশি কৃষি বাজার ব্যবসায়ীদের জ্বলন্ত ১১ দফা দাবিতে পুর পরিষদের কাছে ডেপুটেশনও প্রদান করা হয়েছে বাজার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে৷ গত মাসের ১৮ তারিখ এবিষয়ে পুর পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার, চেয়ারপার্সন ও ভাইস-চেয়ারপার্সনের সাথেও নাকি কথা- বার্তা হয়েছে কৃষি বাজার ব্যবসায়ীদের৷ কিন্তু তাদের সমস্যার সামাধান হয়নি৷ যে কারনে খোয়াই পুর পরিষদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে খোয়াই সুভাষপার্ক এর খুচরো সব্জী বিক্রেতারা অনির্দিষ্টকালের জন্য সব্জী বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল৷ সব্জী বিক্রেতাদের এই সিদ্ধান্তে খোয়াই শহরের সাধারণ মানুষ মহাবিপাকে পড়েছে৷ শনিবার সকাল থেকে সব্জী বাজার ব্যবসায়ী কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেওয়াতে সাধারণ মানুষ কোন হাট বাজারই করতে পারেনি৷ সব্জী বাজার কমিটির সম্পাদক চন্দন সূক্রধর জানান, খোয়াই পুর পরিষদ সুভাষপার্ক বাজারে সব্জী বিক্রেতাদের জন্য সব্জী বাজার ঘর তৈরী করে দেয়৷ প্রতি মাসে মাসে খোয়াই পুর পরিষদ প্রায় পঞ্চাশজন সব্জী ব্যবসায়ীক এর নিকট থেকে ভাড়াও নিচ্ছে৷ কিন্তু গত ছয় মাস ধরে ঐ সরকারী সব্জী বাজার ঘর ছাড়াও একাধিক স্থানে কৃষকরা সব্জী নিয়ে বসে পড়ছেন৷ বাজার কমিটির সম্পাদক চন্দন বাবু প্রশ্ণ তুলেন একটি সব্জী বাজারের পাশেই আরও সব্জী বাজার গড়ে উঠলেও খোয়াই পুর পরিষদ তাদের ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন৷ বার বার খোয়াই পুর পরিষদকে জানিয়েও যখন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না ঠিক তখনই বাজার কমিটি বাজার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ অপর দিকে খোয়াই এর বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা শত শত কৃষক সামান্য মরিচ, ঝিঙ্গে, কারকল, ডাটা ইত্যাদি সব্জী বিক্রি করার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন আসছে সব্জী বাজারে৷ ঐ শতাধিক কৃষকরা সব্জী বাজার ঘরে ঢুকে তা বিক্রি করতে পারেন না৷ গরীব অংশের কৃষকরা তাই কোহিনূর এর উত্তর প্রান্তের রাস্তার পাশে বসে সব্জী বিক্রি করেন সন্ধ্যের পর হই-তিন ঘন্টার জন্য৷ দেখা গেছে খোয়াই পুর পরিষদ প্রতিদিন ঐ কৃষকদের নিকট থেকেও পুরস্থানে বসে সব্জী বিক্রি করার বিনিময়ে রসিদ দিয়ে কর আদায় করছেন৷ আবার কোন কোন সময় ঐ পুর পরিষদই পুলিশ লেলিয়ে গরীব কৃষকদের সমস্ত সব্জী বাজেয়াপ্তওকরে নিচ্ছেন৷ খোয়াই পুর পরিষদ দরিদ্র কৃষকদের জন্য যেমন সঠিক বসার স্থান দিতে পারছেন না ঠিক তেমনি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির দাবীও পূরণ করতে পারছেন না৷ আর তাকে খুচরো সব্জী ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরিদ্র কৃষকদের মারামারি চলছে প্রতিনিয়তই৷ খোয়াই পুর পরিষদের এই ব্যর্থতার জন্য খোয়াইতে যেমন একদিকে অনিদৃষ্টকালের জন্য সব্জী বাজার বন্ধ হয়ে পড়ে আবার অন্যদিকে দরিদ্র কৃষকদের সঙ্গে খুচরো সব্জী বিক্রেতার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকট আস উঠছে৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top