বিয়ের রাতেই পণের জন্য নির্যাতন থানায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর, ২০ মার্চ৷৷ বিয়ের রাত থেকেই স্ত্রীকে নির্যাতন শুরু করার ইতিহাস গড়লেন স্বামী৷ নির্যাতনের সূত্রপাত হয় বিয়ের দিন বরকে সোনার চেইন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এবং আসবাবপত্র নিম্নমানের এবং কম দামের দেওয়া হয়েছে এই বলে৷ নির্যাতনের ধরণ এতটায় বিচিত্রময় ছিল বিয়ের একমাস পর থেকে স্ত্রীকে তার বাপের বাড়ীর সাথে যোগাযোগ একেবারে ছিন্ন করে দেওয়া হয়৷ বিয়ের ছয়মাস না যেতে অত্যাচার সহ্য করতে না পেয়ে এই গৃহবধূ crimeeeসোজা থানায় চলে আসতে বাধ্য হয়৷ এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে উদয়পুর শহর থেকে বড়জোর তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে পুলিশ লাইন আসাম রাইফেল ক্যাম্প সংলগ্ণ এলাকায়৷ উদয়পুর সকুলপুর এলাকায় দুলাল ভৌমিকের তৃতীয় মেয়ে ঝুমুর ভৌমিককে সামাজিক রীতিনীতি মেনে পুলিশ লাইন এলাকায় জ্যোতিষ দেবনাথের ছেলে প্রসনজিৎ দেবনাথের সাথে বিয়ে দেয়৷ বিয়ের সময় ৯০ হাজার টাকা নগদ, স্বর্ণ গয়না এবং অন্যান্য জিনিস পত্র মেয়ের বাবা তার সাধ্যমত দেন৷ বিয়ের এক ঘন্টা পর থেকেই তার মেয়ে পাষন্ড স্বামীর হাতে নির্যাততা হবেন সেটা স্বপ্ণেও ভাবেননি মেয়ের বাবা৷ গৃহবধূ ঝুমুরকে ঠিক মত খেতে না দেওয়া, ঘর থেকে বের হতে না দেওয়া, কারোর সাথে কথা বলতে না দেওয়া, শ্বশুর, শ্বাশুরী এবং স্বামীর বাইরে কোথাও গেলে খাবার না দিয়ে ঘরের মধ্যে তালাবন্ধ করে রেখে দেওয়া অযথা গালিগালাজ এবং দিনের মধ্যে একাধিক বার মারধোর করা ইত্যাদি আরো অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে দীর্ঘ ছয় মাস৷ অবশেষে অত্যাচার যখন সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়ে তখন বাধ্য হয়ে গৃহবধু উদয়পুর মহিলা থানায় চলে আসে৷ বধু নির্যাতনের অভিযোগ এনে স্বামী প্রসনজিৎ দেবনাথ, শ্বশুর জ্যোতিশ দেবনাথ, শ্বাশুরী লক্ষ্মী দেবনাথ, মাসি শ্বাশুরী গীতা দেবনাথ এবং ননাশের জামাই রাখাল দেবনাথের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে৷ মামলার নম্বর ২০১৬/ডব্লিউআর পিএল/০১৬ পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top